বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি।
দেশে দেশে কত-না নগর রাজধানী-
মানুষের কত কীর্তি, কত নদী গিরি সিন্ধু মরু,
কত-না অজানা জীব, কত-না অপরিচিত তরু
রয়ে গেল অগোচরে। বিশাল বিশ্বের আয়োজন;
মন মোর জুড়ে থাকে অতি ক্ষুদ্র তারি এক কোণ।
সেই ক্ষোভে পড়ি গ্রন্থ ভ্রমণবৃত্তান্ত আছে যাহে
অক্ষয় উৎসাহে-
যেথা পাই চিত্রময়ী বর্ণনার বাণী
কুড়াই আনি।
জ্ঞানের দীনতা এই আপনার মনে
পূরণ করিয়া লই যত পানি ভিক্ষালব্ধ ধনে।
আমি পৃথিবীর কবি, যেথা তার যত উঠে ধ্বনি
আমার বাঁশির সুরে সাড়া তার জাগিবে তখনি,
এই স্বরসাধণায় পৌঁছিল না বহুতর ডাক-
রয়ে গেছে ফাঁক।
প্রকৃতির ঐকতানস্রোতে
নানা কবি ঢালে গান নানা দিক হতে;
তাদের সবার সাথে আছে মোর এইমাত্র যোগ-
সঙ্গ পাই সবাকার, লাভ করি আনন্দের ভোগ,
পাই নে সর্বত্র তার প্রবেশের দ্বার,
বাধা হয়ে আছে মোর বেড়াগুলি জীবনযাত্রার।
চাষি খেতে চালাইছে হাল,
তাঁতি বসে তাঁত বোনে, জেলে ফেলে জাল-
বহুদূর প্রসারিত এদের বিচিত্র কর্মভার
তারি পরে ভর দিয়ে চলিতেছে সমস্ত সংসার।

অতি ক্ষুদ্র অংশে তার সম্মানের চিরনির্বাসনে
সমাজের উচ্চ মঞ্জে বসেছি সংকীর্ণ বাতায়নে।
মাঝে মাঝে গেছি আমি ও পাড়ার প্রাঙ্গণের ধারে,
ভিতরে প্রবেশ করি সে শক্তি ছিল না একেবারে।
জীবনে জীবন যোগ করা
না হলে কৃত্রিম পণ্যে ব্যর্থ হয় গানের পসরা।
তাই আমি মেনে নিই সে নিন্দার কথা
আমার সুরের অপূর্ণতা।
আমার কবিতা, জানি আমি,
গেলেও বিচিত্র পথে হয় নাই সে সর্বত্রগামী।
কৃষাণের জীবনের শরিক যে জন,
কর্মে ও কথায় সত্য আত্মীয়তা করেছে অর্জন,
যে আছে মাটির কাছাকাছি,
সে কবির-বাণী-লাগি কান পেতে আছি।
এসো কবি অখ্যাতজনের
নির্বাক মনের।
মর্মের বেদনা যত করিয়া উদ্ধার-
প্রাণীহন এ দেশেতে গানহীন যেথা চারি ধান,
অবজ্ঞার তাপে শুষ্ক নিরানন্দ সেই মরু ভূমি
রসে পূর্ণ করি দাও তুমি।
অন্তরে যে উৎস তার আছে আপনারি
সাহিত্যের ঐকতানসংগীতসভায়
একতারা যাহাদের তারাও সম্মান যেন পায়-
মূক যারা দুঃখে সুখে,
নতশির স্তব্ধ যারা বিশ্বের সম্মুখে,
ওগো গুণী,
কাছে থেকে দূরে যারা তাহাদের বাণী যেন শুনি।

১। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যনাট্যের সংখ্যা কত?

উঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যনাট্যের সংখ্যা ১৯টি।

২। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে পারিবারিক নর্মাল স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন?

উঃ ১৯৩৮ সালে।

৩। তিনি কত বছর বয়সে ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য বিলেত যান?

উঃ সতেরো বছর (১৮৭৮)।

৪। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান?

উঃ ১৯১৩ সালে।

৫। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম-মৃত্যু কত?

উঃ ১৮৬১, ৭মে (২৫ বৈশাখ ১২৬৮)–১৯৪১, ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮)।

৬। ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যটি Song's Offering's নামে তিনি কার সাথে অনুবাদ করেন?

উঃ W। B। Yeats এর সাথে।

৭। মাত্র পনেরো বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন কাব্যটি রচনা করেন?

উঃ ‘বনফুল’ ।

৮। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম কোন কবিতাটি রচনা করেন?

উঃ ‘হিন্দু মেলার উপহার’ ।

৯। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যের সংখ্যা কত?

উঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যের সংখ্যা ৫৬টি।

১০। রবীন্দ্রনাথ কোন কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার পান?

উঃ ‘গীতাঞ্জলি’ (Song's Offerings)

১১। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের সংখ্যা কত?

উঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের সংখ্যা ২২৩২ টি।

১২। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোনগুলোকে শেষ জীবনের প্রিয়া বলে আখ্যায়িত করেছেন?

উঃ তাঁর অঙ্কিত চিত্রাবলীকে (অঙ্কিত চিত্রাবলীর সংখ্যা প্রায় ২০০০)।

১৩। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাজী নজরুল ইসলামকে কোন রচনাটি উৎসর্গ করেছিলেন?

উঃ ‘বসন্ত’ গীতিনাট্য।

১৪। কাজী নজরুল ইসলাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কোন রচনাটি উৎসর্গ করেছিলেন?

উঃ ‘সঞ্চিতা’ কাব্য ।

১৫। ব্রিটিশ সরকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘নাইট হুড’ উপাধি প্রদান করে কখন?

উঃ ১৯১৫ সালে।

১৬। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘গুরুদেব’ উপাধি প্রদান করে কে?

উঃ মহাত্মা গান্ধী।

১৭। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বিশ্বকবি’ উপাধি প্রদান করে কে?

উঃ ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় ।

১৮। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘ভারত রত্ন’ উপাধি প্রদান করে কে?

উঃ ত্রিপুরার রাজা।

১৯। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম কী?

উঃ ভানুসিংহ ঠাকুর।

২০। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন প্রথা চালু করেন?

উঃ রাখি বন্ধন প্রথা।

২১। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৯ সালে ‘নাইটহুড’ উপাধি প্রত্যাখ্যান করেন কেন?

উঃ জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের জন্য।

২২। কোন দুটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশেষ অবদান আছে?

উঃ ‘শান্তিনিকেতন’ ও ‘বিশ্বভারতী’ বিশ্ববিদ্যালয় ।

২৩। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ লেখা কাব্যের নাম কী?

উঃ “শেষ লেখা”।

২৪। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শেষ লেখা” কাব্যের শেষ কবিতার নাম কী?

উঃ ১৫ সংখ্যক কবিতা (তিনি কবিতার নামকরণ করে যেতে পারেননি)।

২৫। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কয়েকটি আত্মজীবনী গ্রন্থের নাম লেখ।

উঃ ছেলেবেলা, জীবনস্মৃতি, আত্মপরিচয়, গল্প-স্বল্প।

২৬। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শেষ লেখা” কাব্যের শেষ কবিতাটি কখন রচনা করেন?

উঃ ৩০ জুলাই, ১৯৪১, সকাল সাড়ে নয়টা (কবি কবিতাটি মুখে মুখে বলেছিলেন এবং ইন্দিরা দেবী তা লিখে নেন)।

২৭। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কয়েকটি উপন্যাসের নাম লেখ।

উঃ চোখের বালি, নৌকা ডুবি, গোরা, চতুরঙ্গ, ঘরে বাইরে, যোগাযোগ, শেষের কবিতা।

২৮। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কয়েকটি প্রবন্ধ গ্রন্থের নাম লেখ।

উঃ আত্মশক্তি, ভারতবর্ষ, সাহিত্য, বিচিত্র প্রবন্ধ, আধুনিক সাহিত্য, প্রাচীন সাহিত্য, লোক সহিত্য, স্বদেশ, সাহিত্যের পথে, সভ্যতার সংকট।

২৯। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প কয় খণ্ডে বিভক্ত?

উঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প ৪ খণ্ডে বিভক্ত।

৩০। ‘ঐকতান’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ সম্মিলিত সুর।

৩১। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কয়েকটি ভ্রমণকাহিনির নাম লেখ।

উঃ ইউরোপবাসীর পত্র, রাশিয়ার চিঠি, পারস্যে, জাপান যাত্রী ।

৩২। ‘ঐকতান' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?

উঃ “জন্মদিনে।”

৩৩। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শেষ লেখা” কাব্যের শেষ কবিতার প্রথম দুই/তিন উল্লেখ কর।

উঃ “তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি/ বিচিত্র ছলনাজালে/ হে ছলনাময়ী!”

৩৪। ‘ঐকতান’ কবিতার প্রথম চরণ কী?

উত্তর :‘বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি।'

৩৫। ‘ঐকতান’ কবিতার শেষ চরণ কী?

উত্তর :‘তোমারে করিব নমস্কার।'

৩৬। কবি কোন সম্বন্ধে কতটুকু জানার কথা বলেছেন?

উঃ বিপুলা পৃথিবী।

৩৭। দেশে দেশে কী আছে?

উঃ নগর, রাজধানী ।

৩৮। কী কী কবির অগোচরে রয়ে গেছে বলে আক্ষেপ করেন?

উঃ মানুষের কত কীর্তি, নদী-গিরি-সিন্ধু-মরু, জীব এবং তরু।

৩৯। বিশাল বিশ্বের অতিক্ষুদ্র কোণে কবির কী পড়ে থাকে?

উঃ কবির মন।

৪০। অর্ধরাত্রে কবির অনিমেষ চোখে অপূর্ব আলোকের স্পর্শ করে কে?

উঃ দক্ষিণমেরুর ঊর্ধ্বে অজ্ঞাত যে তারা।

৪১। ভিক্ষালব্ধ ধনে কবি কী পূরণ করে নেন?

উঃ আপনার মনের জ্ঞানের দীনতা।

৪২। কবি নিজেকে কোথাকার কবি বলেছেন?

উঃ পৃথিবীর কবি।

৪৩। কবির বহুতক ডাক কোথায় পৌঁছালো না?

উঃ স্বরসাধনায়।

৪৪। কবির মন কীভাবে পূর্ণতা পায়?

উঃ কল্পনায়-অনুমানে।

৪৫। নিঃশব্দ নীলিমায় অশ্রুত কে গান করে?

উঃ দুর্গম তুষারগিরি।

৪৬। কবির অন্তরে বার বার কে নিমন্ত্রণ পাঠায়?

উঃ অশ্রুত যে গান গায় (দুর্গম তুষারগিরি)।

৪৮ । অজ্ঞাত তারা কোথায় দেখা যায়?

উঃ দক্ষিণমেরুর ঊর্ধ্বে।

৪৯। কবি কী কুড়িয়ে আনেন?

উঃ চিত্রময়ী বর্ণনার বাণী।

৪৯। প্রকৃতির ঐকতানে কারা সামিল হয়েছে?

উঃ নানা কবি।

৫০। কবি কাদের সঙ্গ পান?

উঃ নানা কবির।

৫১। কবি গীত ভারতীয় প্রসাদ লাভ করে কীভাবে?

উঃ কবিদের সঙ্গ লাভ করে আনন্দ ভোগের মাধ্যমে।

৫২। কবির মতে কার কোনো পরিমাপ নেই?

উঃ সবচেয়ে দুর্গম যে মানুষ আপন অন্তরে।

৫৩। কবির চলার পথে কী বাঁধা হয়ে আছে?

উঃ কবির বেড়াগুলো।

৫৪। কিসের উপর ভর করে সমস্ত সংসার চলছে?

উঃ চাষির হালে, তাঁতির তাঁতে, জেলের জালে।

৫৫। কবি কোথায় বসে আছেন বলে উল্লেখ করেছেন?

উঃ সমাজে উচ্চ মঞ্চে সংকীর্ণ বাতায়নে।

৫৬। কবি মাঝে মাঝে কোথায় গিয়েছিলেন?

উঃ ও পাড়ার ধারে।

৫৭। কবির কোথায় প্রবেশ করার শক্তি ছিল না?

উঃ পাড়ার ভিতরে।

৫৮। কবির মতে গানের পসরা কীভাবে ব্যর্থ হয়?

উঃ জীবনে জীবন যোগ না হলে।

৫৯। কবি কেন নিন্দার কথা এবং তাঁর সুরের অপূর্ণতা মেনে নিয়েছেন?

উঃ পাড়াগাঁয়ের সাথে যোগাযোগ না থাকার কারণে।

৬০। কবির কী বিচিত্র পথে গেলেও কী বিচিত্রগামী হয়নি?

উঃ কবির কবিতা ।

৬১। কবি কোন ধরনের কবির বাণী শোনার জন্য কান পেতে আছেন?

উঃ কৃষাণের কর্ম এবং কথার সাথে যাঁর আত্মীয়তা আছে।

৬২। কবি কোন ধরনের কবির খোঁজে আছেন?

উঃ সাহিত্যের আনন্দের ভোজে কবি যা দিতে পারেননি, এসব যে কবি দিতে পারবেন তার খোঁজে।

৬৩। কবি নতুন কবিদের কোন বিষয়গুলো পূর্ণ করে দেয়ার কথা বলেছেন?

উঃ যা এতদিন অন্য কবিদের অনাহারে, অবহেলায় পড়েছিল সে বিষয়গুলো।

৬৪। কবি কাঁদের বার বার নমস্কার করেছেন?

উঃ গুণীদের।

৬৫। ‘গিরি’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ পর্বত, পাহাড়।

৬৬। 'সিন্ধু’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ সাগর।

৬৭। ‘তরু’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ গাছপালা, বৃক্ষ।

৬৮। 'গ্রন্থ’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ বই, পুস্তক।

৬৯। ‘ভিক্ষালব্ধ’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ ভিক্ষা করে লাভ করা।

৭০। ‘স্বরসাধনায়’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ সুরের বা গানের সাধনায়।

৭১। ‘ধরিত্রী’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ ‘ধরিত্রী’ শব্দের অর্থ পৃথিবী।

৭২। ‘তুষারগিরি’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ বরফে আচ্ছাদিত পাহাড়।

৭৩। ‘নীলিমা' শব্দের অর্থ কী?

উঃ আকাশ।

৭৪। ‘নিখিল’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ বিশ্ব, পৃথিবী।

৭৫। ‘সর্বত্র’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ সব জায়গা।

৭৬। ‘উচ্চমঞ্চে’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ উচ্চ আসনে।

৭৭। ‘খ্যাতি’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ ‘খ্যাতি’ শব্দের অর্থ যশ, সুনাম।

৭৮। ‘প্রাঙ্গণ’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ উঠান।

৭৯। ‘সর্বত্রগামী’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ সব জায়গায় গমন করতে পারে এমন ।

৮০। ‘শরিক’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ অংশীদার।

৮১। ‘উবারি’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ উদ্‌গার করে।

৮২। ‘মূক’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ বোবা, ভাষাহীন।

৮৩। ‘বাতায়নে’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ জানালায় ।