উত্তরঃ ঐকতান" শব্দের অর্থ একই সুর। অর্থাৎ একই ধরনের বা পর্যায়ের। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা "ঐকতান" কবিতাটি তার জীবনের শেষের দিকে রচিত একটি আত্মসমীক্ষামূলক কবিতা। এখানে কবি তার সাহিত্যকর্মের সীমাবদ্ধতা ও অপূর্ণতা স্বীকার করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বকবি হওয়ার নাতে তাঁর "ঐকতান" কবিতায় সর্বত্রগামী সাহিত্যচর্চার প্রত্যাশা করেছেন,আগামী দিনের নবীন কবিদের কাছে। তবে, স্বয়ং তিনি সাহিত্য সৃষ্টিতে সর্বদা সার্থক হতে পারেননি। তার নিজস্ব সীমাবদ্ধতা তিনি স্বীকার করেছেন, এবং তার জীবনে বিশ্বের সমগ্র অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া কষ্টকর ছিল। এমনকি, তিনি নিজের সম্পর্কে বা সম্প্রদায়ের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি করতে ব্যর্থ হলেও সাহিত্য সৃষ্টি করতে উদ্দীপ্ত ছিলেন। তার অসম্পূর্ণতা এবং অক্ষমতা স্বীকৃত হলেও সে সাহিত্যের সম্পূর্ণতা ও সম্মোহন করা হয়েছিল তার মাধ্যমে। যে কোন সাহিত্য যদি জীবনের সাথে সংযুক্ত না হয় বা আত্মার সাথে আত্মিক সম্পর্ক না স্থাপন করে তাকে পূর্ণময় সাহিত্য বলা যাবে না। অতএব, সাহিত্যের সম্পূর্ণতা সম্পাদনে সকলের মতামতকে সাহিত্যের উপাদান হিসেবে গ্রহণ করা প্রয়োজন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যে তার শ্রেষ্ঠতা দিতে পারলেন না, তবে তিনি সহস্রাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন, যারা তাঁকে সম্ভাষণ জানিয়েছেন।

কবিতাটির মূল ভাব:

সর্বত্রগামী সাহিত্যের প্রত্যাশা: কবি আগামী দিনের নবীন কবিদের কাছে সর্বত্রগামী সাহিত্যচর্চার আহ্বান জানান।

নিজের সীমাবদ্ধতার স্বীকারোক্তি: কবি নিজে সর্বত্রগামী সাহিত্য রচনা করতে পারেননি বলে স্বীকার করেন।

বিশ্বায়ত চেতনার সীমাবদ্ধতা: বিশ্বায়ত চেতনায় বিশ্বাসী হলেও কবি সারা বিশ্বের সবকিছু সম্পর্কে ধারণা লাভ করে তা কাব্যে স্থান দিতে পারেননি।

শ্রেণি অবস্থানের প্রভাব: নিজের শ্রেণি অবস্থানের কারণে কবি নিম্নবর্ণের মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়তে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

সাহিত্যের পূর্ণময়তার জন্য প্রয়োজনীয়তা: কবি মনে করেন, সাহিত্যের পূর্ণময়তার জন্য সকলের কথাকে সাহিত্যের উপকরণ হিসেবে গ্রহণ করা।

নবীন কবিদের প্রতি আহ্বান: কবি নবীন কবিদেরকে মাটির কাছাকাছি সেই প্রাকৃতজনের কবি হতে আহ্বান জানান।

"ঐকতান" কবিতাটিতে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একজন সাহিত্যিকের আত্মসমীক্ষা ও নবীন কবিদের প্রতি দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। কবিতাটিতে সাহিত্যের সার্বজনীনতা ও সামাজিক দায়িত্বের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।