আশার ছলনে ভুলি কী ফল লভিনু,হায়,
তাই ভাবী মনে?
জীবন-প্রবাহ বহি কাল-সিন্ধু পানে যায়,
ফিরাব কেমনে?
দিন দিন আয়ুহীন হীনবল দিন দিন ,—
তবু এ আশার নেশা ছুটিল না? এ কি দায়!
রে প্রমত্ত মন মম! কবে পোহাইবে রাতি?
জাগিবি রে কবে?
জীবন-উদ্যানে তোর যৌবন-কুসুম-ভাতি
কত দিন রবে?
নীর বিন্ধু, দূর্বাদলে,নিত্য কিরে ঝলঝলে?
কে না জানে অম্বুবিম্ব অম্বুমুখে সদ্যঃপাতি?
নিশার স্বপন-সুখে সুখী যে কী সুখ তার?
জাগে সে কাঁদিতে!
ক্ষণপ্রভা প্রভা -দানে বাড়ায় মাত্ত আঁধার
পথিকে ধাঁদিতে!
মরীচিকা মরুদেশে,নাশে প্রাণ তৃষাক্লেশে—
এ তিনের ছল সম ছল রে এ কু-আশার।
প্রেমের নিগড় গড়ি পরিলি চরণে সাদে
কী ফল লভিলি?
জ্বলন্ত-পাবক-শিখা-লোভে তুই কাল ফাঁদে
উড়িয়া পড়িলি
পতঙ্গ যে রঙ্গে ধায়,ধাইলি,অবোধ,হায়
না দেখলি না শুনিলি,এবে রে পরাণ কাঁদে
বাকি কি রাখিলি তুই বৃথা অর্থ-অন্বেষণে,
সে সাধ সাধিতে?
ক্ষত মাত্ত হাত তোর মৃণাল-কণ্টকগণে
কমল তুলিতে
নারিলি হরিতে মণি, দঃশিল কেবল ফণী
এ বিষম বিষজ্বালা ভুলিবি, মন,কেমনে!
যশোলাভ লোভে আয়ু কত যে ব্যয়িলি হায়,
কব তা কাহারে?
সুগন্ধ কুসুম-গন্ধে অন্ধ কীট যথা ধায়,
কাটিতে তাহারে?
মাৎসর্য-বিষদশন, কামড়ে রে অনুক্ষণ!
এই কি লভিলি লাভ,অনাহারে,অনিদ্রায়?
মুকুতা-ফলের লোভে,ডুবে রে অতল জলে
যতনে ধীবর,
শতমুক্তাধিক আয়ু কালসিন্ধু জলতলে
ফেলিস,পামড়!
ফিরি দিবি হারাধন,কে তোরে,অবোধ মন,
হায় রে,ভুলিবি কত আশার কুহক-ছলে!

১। মাইকেল মধুসূদন দত্তের কোথায় জন্মগ্রন করেন। 
উঃ মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে।
 
২। মাইকেল মধুসূদন দত্তের কত সালে জন্মগ্রহণ করেন। 
উঃ মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ শে জানুয়ারী জন্মগ্রহণ করেন।

৩। মাইকেল মধুসূদন দত্তের পিতা ও মাতার নাম কী?
উঃ মাইকেল মধুসূদন দত্তের পিতা ছিলেন রাজনারায়ণ দত্ত এবং মাতার নাম ছিল জাহ্নবী দেবী।

৪। মধুসূদন দত্তের পারিবারিক নাম কী ছিল?
উঃ মধুসূদন দত্তের পারিবারিক নাম ছিল শ্রী মধুসূদন দত্ত। 

৫। মধুসুদনের কয়েকটি কাব্যের নাম লেখ।
উঃ মেঘনাদ বধ কাব্য, বীরাঙ্গনা কাব্য, ব্রজাঙ্গনা কাব্য, তিলোত্তমা সম্ভব কাব্য।

৬। মধুসুদনের ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ জন্মে কখন?
উঃ মধুসুদনের ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ জন্মে কলেজে পড়ার সময়।

৭। মাইকেল মধুসূদন দত্ত কত সালে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন?
উঃ মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন।

৮। মাইকেল মধুসূদন দত্ত কোন কলেজে অধ্যয়ন করেন?
উঃ মাইকেল মধুসূদন দত্ত কলকাতার হিন্দু কলেজে অধ্যয়ন করেন।

৯। মাইকেল মধুসূদন দত্ত  কতটি ভাষা জানতেন?
উঃ মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন একজন বহুভাষাবিদ। মাতৃভাষা বাংলা ছাড়াও তিনি আরও বারোটি ভাষা জানতেন।

১০। মাদ্রাজে মধুসূদন কোন পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত হন?
উঃ মাদ্রাজে মধুসূদন দত্ত 'মধুসূদন দত্তের' নামে একটি সাহিত্য পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।

 ১১। “শেক্সপীয়র নিউটন হতে পারে, কিন্তু নিউটন শেক্সপীয়র হতে পারে না।”- উক্তিটি কার?
উঃ "শেক্সপীয়র নিউটন হতে পারে, কিন্তু নিউটন শেক্সপীয়র হতে পারে না।" - এই উক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত-এর।

১২। বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ’ তিনি কত সালে রচনা করেন?
উঃ মাইকেল মধুসূদন দত্ত 'মেঘনাদবধ' মহাকাব্যটি ১৮৬১ সালে রচনা করেন।

১৩। মধুসুদনের দুটি ইংরেজি রচনার নাম লেখ।
উঃ মধুসুদনের দুটি ইংরেজি রচনার নাম:
The Captive Ladie (ক্যাপ্টিভ লেডি) - এটি একটি কবিতা।
Sermo Indicus (সার্মো ইন্ডিকাস) - এটি একটি প্রবন্ধ।

The Vision of Vasavadatta (দ্য ভিশন অফ ভাসবদত্তা) - একটি কবিতা
Meena (মীনা) - একটি কবিতা
The Rajah's Daughter (দ্য রাজার ডটার) - একটি নাটক
The Bridal Garland (দ্য ব্রাইডাল গার্ল্যান্ড) - একটি কবিতা

১৪। মধুসূদনের ছদ্মনাম কী?
উঃ মধুসূদনের একমাত্র সুপরিচিত ছদ্মনাম হল টিমোথি পেনপোয়েম।

১৫। মধুসূদন এর প্রথম স্ত্রীর নাম কী?
উঃ মধুসূদন দত্তের প্রথম স্ত্রীর নাম ছিল ভুবনমোহিনী দেবী।
দ্বিতীয় হেনরিয়েটা। 

১৬। মধুসূদন কী কী প্রহসন রচনা করেন?
উঃ মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রখ্যাত কবি ও নাট্যকার হলেও তিনি মাত্র দুটি প্রহসন রচনা করেছিলেন:
১) একেই কি বলে সভ্যতা? (১৮৬০)
২) বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০)

১৭। মধুসূদনের প্রথম নাটকের নাম কী?
উঃ মধুসূদনের প্রথম নাটকের নাম শর্মিষ্ঠা। এটি ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত হয়।

১৮। ‘কুহক-ছলে’ শব্দের অর্থ কী?
উঃ কুহেলিকার ছলনায় ।

১৯। অন্ধ কিট কোথায় ধেয়ে চলে? 
উঃ সুগন্ধি কুসুম গন্ধে।

২১। ‘শর্মিষ্ঠা' নাটকটি কোথায় মঞ্চস্থ হয়েছিল। 
উঃ ‘শর্মিষ্ঠা' নাটকটি প্রথম মঞ্চস্থ হয়েছিল ১৮৭৩ সালের ১৬ আগস্ট, কলকাতার বেঙ্গল থিয়েটারে। বর্তমানে ৯ নম্বর বিডন স্ট্রিটে অবস্থিত এটি বাংলার প্রথম পেশাদার থিয়েটার হল।

২২।‘ধীবর’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ ‘ধীবর’ শব্দের অর্থ জেলে।


২৩। মধুসুদন দত্তের রচিত সর্বশেষ নাটকটির নাম কী?

উঃ ‘মায়া-কানন' (১৮৭৪)।


২৪। গ্রিক ও পুরাণের কাহিনি নিয়ে মধুসূদন কোন নাটকটি রচনা করেন?

উঃ ‘পদ্মাবতী'।


২৫। ‘শর্মিষ্ঠা’ ও ‘পদ্মাবতী’ নাটক মধুসূদন কোন আদর্শে রচনা করেছিলেন?

উঃ সংস্কৃত আদর্শে।


২৬। মধুসূদন কোন কোন নাটক সম্পূর্ণ করে যাননি?

উঃ ‘রিজিয়া’ এবং ‘সুভদ্রা’ ।


২৭। মধুসূদন দীনবন্ধু মিত্রের কোন নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন?

উঃ ‘নীলদর্পণ' (The Indigo Planting Mirror)।


২৮।মধুসূদন কোন ছদ্মনামে ‘নীলদর্পণ' নাটকটি অনুবাদ করেছিলেন?

উঃ A। Native।


২৯। বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং সার্থক মহাকাব্যের নাম কী?

উঃ ‘মেঘনাদ বধ’ (১৮৬১)।


৩০। কবির হাত ক্ষত কেন?

উঃ কমল তুলতে গিয়ে মৃণাল কণ্টকে।


৩১। ‘আত্মবিলাপ’ কবিতাটি কত স্তবকে বিভক্ত?

উঃ ‘আত্মবিলাপ' কবিতাটি ৭টি স্তবকে বিভক্ত।


৩২। কবি মধুসূদন কিসে ভুলে ছিলেন?

উঃ আশার ছলনে।


৩৩। কবি কী ভাবেন মনে?

উঃ আশার ছলনে ভুলে কি ফল লাভ করলেন।


৩৪। জীবন-প্রবাহ কোন দিকে বয়ে যায়?

উঃ কাল সিন্ধু পানে


৩৫। কবি কাকে ফেরানোর কথা বলেছেন?

উঃ জীবন-প্রবাহ।


৩৬। কবির দিন দিন কী ফুরিয়ে যায়?

উঃ আয়ু এবং বল।


৩৭। কবির আয়ু এবং বল শেষ হলেও কীসের নেশা ছোটে না?

উঃ আশার নেশা।


৩৮। কবি 'আত্মবিলাপ' কবিতায় কাকে জাগার কথা বলেছেন?

উঃ নিজের প্রমত্ত মনকে।


৩৯। কবির জীবন উদ্যানে কী ফুরিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ?

উঃ যৌবন কুসুম ভাতি।


৪০। নিত্য কী ঝলমল করে না?

উঃ নীর-বিন্দু দুর্বাদলে।


৪১। কার কোনো সুখ নেই?

উঃ নিশার-স্বপন সুখে যে সুখী।


৪২। কে শুধু আঁধার বাড়ায়?

উঃ ক্ষণপ্রভা।


৪৩। মরীচিকা মরুদেশে কী হয়?

উঃ নাশে প্রাণ তৃষাক্লেশে।


৪৪। পথিককে ধাঁধায় ফেলে কিসে?

উঃ ক্ষণপ্রভা।


৪৫। কবি ‘আত্মবিলাপ’ কবিতায় কোন তিন ছলের কু-আশার কথা বলেছেন?

উঃ নিশার স্বপ্ন, ক্ষণপ্রভা এবং মরুদেশের মরীচিকা।


৪৬। কবি কী সাধ করে চরণে পরেছিলেন?

‘উঃ প্রেমের নিগড়।


৪৭। কবি কাল ফাঁদে কিসের লোভে উড়ে পড়েছিলেন?

উঃ জ্বলন্ত পাবক শিখা লোভে।


৪৮। কবি কার মতো ধেয়ে চলেছিলেন?

উঃ পতঙ্গের মতো।


৪৯। কবির মতে কী অন্বেষণ করা বৃথা?

উঃ কবির মতে অর্থ অন্বেষণ করা বৃথা।


৫০। মধুসূদন কোথায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন?

উঃ আলীপুর হাসপাতাল (১৮৭৩, ২৯ জুন)


৫১। কবি কোন বিষমজ্বালা ভুলতে পারেন না?

উঃ ফণীর দংশন জ্বালা।


৫২। কবির আয়ু কীভাবে শেষ হয়েছে কিংবা ব্যয় করেছেন?

উঃ যশোলাভে।


৫৪। কবি অনাহারে, অনিদ্রায় কী লাভ করতে চেয়েছিলেন?

উঃ যশোলাভ।


৫৫। কে কামড় দেয় অনুক্ষণ?

উঃ মাৎসর্য বিষদশন।


৫৭। আশার কুহক-ছলে কী হারিয়েছেন?

উঃ শতমুক্তাধিক আয়ু।


৫৮। কালসিন্ধু জলতলে কবি কী হারিয়েছেন?

উঃ শতমুক্তাধিক আয়ু।


৫৯। ‘আত্মবিলাপ কবিতার প্রথম চরণ কী?

উঃ “আশার ছলনে ভুলি কি ফল লভিনু হায়”।


৬০। ‘মাৎসর্য-বিষদমান’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ ইন্দ্রিয়ের দংশন।


৬১। ‘লভিনু’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ লাভ করলাম।


৬২। ‘সিন্ধু' শব্দের অর্থ কী?

উঃ ‘সিন্ধু' শব্দের অর্থ সাগর।


৬৩। ‘আয়ুহীন’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ ‘আয়ুহীন’ শব্দের অর্থ আয়ুক্ষয়।


৬৪। ‘প্রমত্ত’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ ‘প্রমত্ত’ শব্দের অর্থ উন্মাতাল ।


৬৫। জীবন-উদ্যানে’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ জীবনের খেলাঘরে।


৬৬। ‘ভাতি’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ আলো, প্রদীপ ।


৬৭।‘নীর’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ ‘নীর’ শব্দের অর্থ পানি, জল ।


৬৮। ‘অম্বুবিন্দু অম্বুমুখে সদ্য : পাতি’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উঃ জল সর্বদা সাগরের দিকে ধেয়ে যায়।


৬৯। ‘ক্ষণপ্রভা’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ বিদ্যুৎ, বিজলি।


৭০। ‘নিগড়’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ ‘নিগড়’ শব্দের অর্থ খাঁচা।


৭১।‘পাবক-শিখা’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ আগুনের শিখা।


৭২। ‘মৃণাল’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ ফুলের বোঁটা।


৭৩। ‘আত্মবিলাপ’ কবিতার শেষ চরণ কী?

উঃ “হায় রে, ভুলিবি কত আশার কুহক-ছলে”।


৭৪। বাংলা কবিতা ডিগ্রী দ্বিতীয় বর্ষের বাংলা বিষয়ের সকল প্রশ্নের উত্তর বাংলা ৫৬। ধীবর অতল জলে কেন ডুব দেয়?

উঃ মুক্তার লোভে।