১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিপর্যয়কর পরাজয় (মাত্র ৯টি আসন) ছিল বাঙালি জনগণের ক্ষোভ ও ঐক্যের ফল। যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা দাবি জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং মুসলিম লীগের দুর্নীতি, স্বৈরাচার ও বাঙালি-বিরোধী নীতি তাদের পতন ডেকে আনে। নিম্নে ৮টি প্রধান কারণ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা হলো।
মুসলিম লীগ সরকার দুর্নীতি, অদক্ষতা ও জনকল্যাণ উপেক্ষা করে। খাদ্য সংকট, মূল্যবৃদ্ধি ও দুর্ভিক্ষের সময়েও তারা জনগণের পাশে দাঁড়ায়নি।
১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে গুলি চালিয়ে ছাত্র-জনতা হত্যা মুসলিম লীগের প্রতি জনরোষ সৃষ্টি করে। এটি তাদের রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে।
পূর্ববঙ্গের পাটের আয় পশ্চিম পাকিস্তানে স্থানান্তরিত হয়। পূর্ববঙ্গে শিল্প-কারখানা, রাস্তাঘাট, শিক্ষা-স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ না হওয়ায় জনগণ ক্ষুব্ধ হয়।
আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলামসহ বিরোধী দলগুলো যুক্তফ্রন্ট গঠন করে একক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।
স্বায়ত্তশাসন, বাংলা ভাষা, কৃষক-শ্রমিক অধিকার, শহীদদের স্মৃতি রক্ষা—এই দাবিগুলো গ্রাম-শহর সর্বত্র সমর্থন লাভ করে।
পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বাঙালি-বিরোধী মনোভাব ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন জাতীয়তাবাদী চেতনাকে জাগ্রত করে।
মুসলিম লীগ প্রচারে ‘ইসলাম বিপন্ন’ স্লোগান দেয়, কিন্তু জনগণ তা গ্রহণ করেনি। যুক্তফ্রন্টের গণসংযোগ ছিল অ更新কার্যকর।
মুসলিম লীগের মধ্যে গোষ্ঠীকোন্দল, নেতৃত্বের সংকট ও জনবিচ্ছিন্নতা তাদের দুর্বল করে।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের পরাজয় ছিল তাদের জনবিরোধী নীতি ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিজয়। এই পরাজয় পাকিস্তানি শাসনের ভিত্তি নড়বড়ে করে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পথ প্রশস্ত করে।