১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। পশ্চিম পাকিস্তান শিল্পোন্নত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ছিল, অন্যদিকে পূর্ব পাকিস্তান কৃষিনির্ভর এবং উপনিবেশিক শোষণের শিকার হয়ে আসছিল। এই বৈষম্য শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নেই নয়, বরং জাতীয় বাজেট বণ্টন, বিনিয়োগ, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং সামাজিক সুযোগ-সুবিধায়ও স্পষ্ট ছিল। ফলে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়, যা পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে ওঠে।
পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য ছিল পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংকটের মূল কারণ। এই বৈষম্য শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেনি, বরং জাতীয় ঐক্যকেও দুর্বল করেছে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অর্থনৈতিক শোষণ ও অধিকার বঞ্চনা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তৈরি করে। এই ঐতিহাসিক শিক্ষা আমাদের বোঝায় যে, ন্যায়সঙ্গত সম্পদ বণ্টন ছাড়া কোনো রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়।