তৃতীয় অধ্যায় অখণ্ড স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্র গঠনের প্রয়াস ও উপমহাদেশের বিভক্তি

অখণ্ড স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্র গঠনের প্রয়াস:

১। অখণ্ড স্বাধীন বাংলা গঠনের প্রথম প্রস্তাব কে দেন?
উঃ শরৎচন্দ্র বসু।
২। কত সালে অখণ্ড স্বাধীন বাংলা গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়?
উঃ ১৯৪৭ সালে।
৩। শরৎচন্দ্র বসুর সাথে এই প্রস্তাবনায় আর কে যুক্ত ছিলেন?
উঃ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
৪। অখণ্ড স্বাধীন বাংলা গঠনের ধারণার মূল ভিত্তি কী ছিল?
উঃ ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐক্য।
৫। কোন রাজনৈতিক দল অখণ্ড স্বাধীন বাংলার ধারণাকে সমর্থন করেছিল?
উঃ মূলত কোনো একক প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল নয়, তবে কিছু প্রগতিশীল ও জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী এর সমর্থক ছিল।
৬। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অখণ্ড বাংলার প্রস্তাবের বিরোধিতা কে করেছিলেন?
উঃ সরদার বল্লভভাই প্যাটেল।
৭। মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে অখণ্ড বাংলার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন কে?
উঃ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
৮। কেন কংগ্রেস অখণ্ড বাংলার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিল?
উঃ তারা ভারতের অখণ্ডতা বজায় রাখতে চেয়েছিল এবং আশঙ্কা করেছিল যে একটি স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্র দুর্বল হতে পারে।
৯। কেন মুসলিম লীগ অখণ্ড বাংলার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিল?
উঃ তারা দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর ছিল এবং একটি অখণ্ড বাংলা তাদের পরিকল্পনাকে ব্যাহত করতে পারত।
১০। অখণ্ড স্বাধীন বাংলা গঠনের প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় কেন?
উঃ কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের প্রবল বিরোধিতা এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের অসম্মতির কারণে।
১১। অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
উঃ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
১২। ১৯৪৭ সালে বাংলা আইনসভায় ভোটাভুটির ফলাফল কী ছিল?
উঃ বাংলা ভাগের পক্ষে ভোট পড়েছিল, যদিও অখণ্ড বাংলার প্রস্তাবও আলোচনায় ছিল।
১৩। কোন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে অখণ্ড বাংলার প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিল?
উঃ ব্রিটিশ ভারতের বিভাজন ও ভারত-পাকিস্তান নামক দুটি নতুন রাষ্ট্র গঠনের প্রেক্ষাপটে।
১৪। অখণ্ড বাংলার প্রস্তাব কি কোনো গণভোটের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছিল?
উঃ না।
১৫। অখণ্ড বাংলার প্রস্তাবের সমর্থকদের মূল যুক্তি কী ছিল?
উঃ বাংলা একটি স্বতন্ত্র ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক সত্তা এবং এর নিজস্ব ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার থাকা উচিত।
১৬। ব্রিটিশ সরকার অখণ্ড বাংলার প্রস্তাবের প্রতি কেমন মনোভাব পোষণ করত?
উঃ ব্রিটিশ সরকার মূলত ভারত ও পাকিস্তানের নেতাদের সম্মতির উপর নির্ভর করছিল এবং তাদের বিরোধিতার মুখে এই প্রস্তাব কার্যকর করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
১৭। অখণ্ড বাংলার প্রস্তাবের ব্যর্থতা কি বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে কোনো প্রভাব ফেলেছিল?
উঃ হ্যাঁ, এর ব্যর্থতা অনেক বাঙালিকে স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের ধারণার দিকে ধাবিত করেছিল।
১৮। অখণ্ড বাংলার প্রস্তাবের আলোচনা কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
উঃ মূলত কলকাতা ও দিল্লির রাজনৈতিক মহলে।
১৯। অখণ্ড বাংলার প্রস্তাবের প্রধান উদ্যোক্তাদের মধ্যে আর কে উল্লেখযোগ্য ছিলেন?
উঃ আবুল হাশিম।
২০। ঐতিহাসিকরা অখণ্ড বাংলার প্রস্তাবকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
উঃ কেউ কেউ এটিকে একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে দেখেন, আবার কেউ কেউ এটিকে একটি অবাস্তব কল্পনা হিসেবে দেখেন।

উপমহাদেশের বিভাজন:

২১। কোন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারত দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়?
উঃ ভারতীয় স্বাধীনতা আইন, ১৯৪৭ (Indian Independence Act, 1947)।
২২। ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি রাষ্ট্র কবে গঠিত হয়?
উঃ ১৪ ও ১৫ আগস্ট, ১৯৪৭ সালে।
২৩। উপমহাদেশের বিভাজনের মূল কারণ কী ছিল?
উঃ মুসলিম লীগের দ্বিজাতিতত্ত্ব এবং হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিভেদ।
২৪। দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রবক্তা কে ছিলেন?
উঃ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
২৫। দ্বিজাতিতত্ত্বের মূল বক্তব্য কী ছিল?
উঃ হিন্দু ও মুসলিমরা দুটি স্বতন্ত্র জাতি এবং তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র থাকা উচিত।
২৬। কোন রাজনৈতিক দল দ্বিজাতিতত্ত্বের বিরোধিতা করেছিল?
উঃ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একটি অংশ এবং অন্যান্য কিছু ছোট দল।
২৭। উপমহাদেশের বিভাজনের সময় ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় কে ছিলেন?
উঃ লর্ড মাউন্টব্যাটেন।
২৮। রেডক্লিফ লাইন কী?
উঃ সিরিল রেডক্লিফের নেতৃত্বে গঠিত boundary commission কর্তৃক ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্ত নির্ধারণকারী রেখা।
২৯। রেডক্লিফ কমিশন কত সালে গঠিত হয়েছিল?
উঃ ১৯৪৭ সালে।
৩০। রেডক্লিফ কমিশনের প্রধান কাজ কী ছিল?
উঃ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা নির্ধারণ করা।
৩১। রেডক্লিফ লাইন নিয়ে বিতর্ক কেন সৃষ্টি হয়েছিল?
উঃ এই সীমানা নির্ধারণে অনেক অসঙ্গতি ছিল এবং এর ফলে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
৩২। দেশভাগের ফলে কত সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়?
উঃ প্রায় ১০ থেকে ২০ মিলিয়ন।
৩৩। দেশভাগের সময় ব্যাপক সহিংসতার কারণ কী ছিল?
উঃ ধর্মীয় বিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িক উস্কানি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা।
৩৪। দেশভাগের ফলে কোন কোন নতুন প্রদেশের সৃষ্টি হয়?
উঃ পূর্ব বাংলা (যা পরে পূর্ব পাকিস্তান হয়) এবং পশ্চিম পাঞ্জাব (পাকিস্তানের অংশ)।
৩৫। দেশভাগের ফলে কোন কোন পুরনো প্রদেশের বিভাজন ঘটে?
উঃ পাঞ্জাব ও বাংলা।
৩৬। দেশভাগের ফলে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় কোন কোন প্রধান অঞ্চল?
উঃ অধিকাংশ হিন্দু ও শিখ অধ্যুষিত অঞ্চল।
৩৭। দেশভাগের ফলে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয় কোন কোন প্রধান অঞ্চল?
উঃ অধিকাংশ মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল।
৩৮। দেশভাগের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর কে ছিলেন?
উঃ স্যার ফ্রেডেরিক বুরোস।
৩৯। দেশভাগের সময় পশ্চিম পাঞ্জাবের গভর্নর কে ছিলেন?
উঃ স্যার ফ্রান্সিস মুডি।
৪০। দেশভাগের ফলে অর্থনীতির উপর কেমন প্রভাব পড়েছিল?
উঃ উভয় দেশের অর্থনীতিই প্রাথমিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছিল, ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হয়েছিল এবং সম্পদের পুনর্বিন্যাস করতে হয়েছিল।

উপমহাদেশের বিভাজন (পর্ব ২):

৪১। দেশভাগের ফলে সংস্কৃতির উপর কেমন প্রভাব পড়েছিল?
উঃ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিভক্ত হয়েছিল এবং সাম্প্রদায়িক বিভেদ সংস্কৃতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
৪২। দেশভাগের ফলে প্রশাসনের উপর কেমন প্রভাব পড়েছিল?
উঃ নতুন দুটি রাষ্ট্রের জন্য নতুন করে প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করতে হয়েছিল, যা একটি জটিল প্রক্রিয়া ছিল।
৪৩। কাশ্মীর সমস্যার মূল কারণ কী?
উঃ দেশভাগের সময় কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অনিশ্চয়তা এবং ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধ।
৪৪। হায়দ্রাবাদ ও জুনাগড়ের পরিণতি কী হয়েছিল?
উঃ প্রাথমিকভাবে স্বাধীন থাকার চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে এগুলো ভারতের সাথে যুক্ত হয়।
৪৫। দেশভাগের ফলে সংখ্যালঘুদের অবস্থা কেমন হয়েছিল?
উঃ উভয় দেশেই সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছিল এবং ব্যাপক সহিংসতার শিকার হয়েছিল।
৪৬। দেশভাগের ফলে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতাদের মধ্যে কী ধরনের বিভেদ দেখা গিয়েছিল?
উঃ কেউ কেউ দেশভাগের বিরোধিতা করেছিলেন, আবার কেউ কেউ এটিকে অনিবার্য বলে মনে করেছিলেন।
৪৭। মহাত্মা গান্ধী কি দেশভাগের পক্ষে ছিলেন?
উঃ না, তিনি দেশভাগের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন।
৪৮। সীমান্ত নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়েছিল?
উঃ মূলত ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা, তবে ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক বিষয়গুলোও কিছু ক্ষেত্রে বিবেচিত হয়েছিল।
৪৯। দেশভাগের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর কেমন প্রভাব পড়েছিল?
উঃ সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল এবং নতুন করে সংযোগ স্থাপন করতে হয়েছিল।
৫০। দেশভাগের ফলে শিক্ষা ব্যবস্থার উপর কেমন প্রভাব পড়েছিল?
উঃ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিভক্ত হয়েছিল এবং নতুন পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করতে হয়েছিল।
৫১। দেশভাগের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনে কী পরিবর্তন এসেছিল?
উঃ বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল, অনেকে তাদের আত্মীয়-স্বজন হারিয়েছিল এবং একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সম্মুখীন হয়েছিল।
৫২। দেশভাগ কি অনিবার্য ছিল?
উঃ ঐতিহাসিকদের মধ্যে এই বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবে তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি একটি বাস্তব পরিণতি হিসেবে দেখা দেয়।
৫৩। দেশভাগের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কী ছিল?
উঃ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতা, সীমান্ত বিরোধ এবং সাম্প্রদায়িক বিভেদ।
৫৪। দেশভাগের ফলে পূর্ব বাংলার মানুষ কেন অসন্তুষ্ট ছিল?
উঃ ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ভিন্নতা এবং পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে।
৫৫। ভাষা আন্দোলন কত সালে শুরু হয়েছিল?
উঃ ১৯৫২ সালে।
৫৬। ভাষা আন্দোলনের মূল দাবি কী ছিল?
উঃ বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।
৫৭। ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব কী ছিল?
উঃ এটি বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।
৫৮। যুক্তফ্রন্ট কত সালে গঠিত হয়েছিল?
উঃ ১৯৫৪ সালে।
৫৯। যুক্তফ্রন্টের মূল লক্ষ্য কী ছিল?
উঃ প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগকে পরাজিত করা এবং পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
৬০। যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচির মূল বিষয়বস্তু কী ছিল?
উঃ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা, পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন, শিক্ষার প্রসার, কৃষকদের অধিকার রক্ষা ইত্যাদি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন (পর্ব ১):

৬১। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা কর্মসূচির প্রবক্তা কে ছিলেন?
উঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
৬২। ছয় দফা কর্মসূচির মূল দাবি কী ছিল?
উঃ পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন।
৬৩। ছয় দফা কর্মসূচি কোথায় উত্থাপন করা হয়েছিল?
উঃ লাহোরে বিরোধী দলগুলোর জাতীয় সম্মেলনে।
৬৪। ছয় দফা কর্মসূচিকে কেন বাঙালির "মুক্তির সনদ" বলা হয়?
উঃ এটি পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছিল।
৬৫। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের কারণ কী ছিল?
উঃ আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী শাসন, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং ছয় দফার প্রতি সরকারের অনীহা।
৬৬। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে?
উঃ আওয়ামী লীগ।
৬৭। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কতটি আসনে জয়লাভ করে?
উঃ জাতীয় পরিষদে ১৬৭টি (মোট ৩১৩টি আসনের মধ্যে)।
৬৮। ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক কে দেন?
উঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
৬৯। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বঙ্গবন্ধু কোথায় দিয়েছিলেন?
উঃ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)।
৭০। ৭ই মার্চের ভাষণের মূল বক্তব্য কী ছিল?
উঃ স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান।
৭১। অপারেশন সার্চলাইট কী?
উঃ ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানে চালানো গণহত্যা ও দমন অভিযান।
৭২। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা কবে হয়?
উঃ ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ।
৭৩। কে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন?
উঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (তাঁর পক্ষে অন্যরা ঘোষণা পাঠ করেন)।
৭৪। মুজিবনগর সরকার কবে গঠিত হয়?
উঃ ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল।
৭৫। মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
উঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন)।
৭৬। মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
উঃ তাজউদ্দীন আহমদ।
৭৭। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের ভূমিকা কী ছিল?
উঃ ভারত বাংলাদেশকে সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তা প্রদান করে।
৭৮। মুক্তিবাহিনী কী?
উঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বাঙালি সামরিক ও বেসামরিক যোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত বাহিনী।
৭৯। সেক্টর কমান্ডার কারা ছিলেন?
উঃ মুক্তিযুদ্ধকালে পূর্ব পাকিস্তানকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে প্রতিটি সেক্টরের দায়িত্বে থাকা সামরিক কর্মকর্তা।

বাংলাদেশের বিজয় ও উপমহাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

৮০। বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি কতজন মুক্তিযোদ্ধাকে দেওয়া হয়েছে?
উঃ সাতজন।
৮১। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর কী ঘটেছিল?
উঃ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ এবং বাংলাদেশের বিজয়।
৮২। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে কে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন?
উঃ লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ। কে। নিয়াজী (পাকিস্তান) এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা (ভারত ও বাংলাদেশ)।
৮৩। বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
উঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
৮৪। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
উঃ তাজউদ্দীন আহমদ।
৮৫। কত সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে?
উঃ ১৯৭৪ সালে।
৮৬। সিমলা চুক্তি কত সালে স্বাক্ষরিত হয়?
উঃ ১৯৭২ সালে।
৮৭। সিমলা চুক্তি কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?
উঃ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে।
৮৮। লাহোর প্রস্তাব কত সালে উত্থাপিত হয়?
উঃ ১৯৪০ সালে।
৮৯। লাহোর প্রস্তাবের মূল বিষয়বস্তু কী ছিল?
উঃ ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠন।
৯০। ক্যাবিনেট মিশন কত সালে ভারতে আসে?
উঃ ১৯৪৬ সালে।
৯১। ক্যাবিনেট মিশনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
উঃ ভারতীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি পরিকল্পনা তৈরি করা।
৯২। প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস কবে পালিত হয়?
উঃ ১৬ই আগস্ট, ১৯৪৬ সালে (মুসলিম লীগের ডাকে)।
৯৩। প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবসের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
উঃ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন জোরদার করা।
৯৪। খসড়া গণপরিষদের চেয়ারম্যান কে ছিলেন?
উঃ ডঃ ভীমরাও রামজি আম্বেদকর (ভারতের)।
৯৫। গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন কবে অনুষ্ঠিত হয়?
উঃ ৯ই ডিসেম্বর, ১৯৪৬ (ভারতের)।
৯৬। পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
উঃ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
৯৭। ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
উঃ লর্ড মাউন্টব্যাটেন (স্বাধীন ভারতের)।
৯৮। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
উঃ জওহরলাল নেহেরু।
৯৯। পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
উঃ লিয়াকত আলী খান।
১০০। উপমহাদেশের বিভাজন বাঙালি সংস্কৃতি ও সাহিত্যের উপর কেমন প্রভাব ফেলেছিল?
উঃ এটি উভয় বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে একটি গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল এবং দেশভাগের বেদনা ও স্মৃতি সাহিত্যকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছিল।