প্রশ্নঃ স্বদেশী আন্দোলন কী?
অথবা, স্বদেশী আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?
অথবা, স্বদেশী আন্দোলন কাকে বলে?
ভূমিকা: ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে স্বদেশী আন্দোলন ছিল একটি স্মরণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯০৫ সালে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রশাসনিক সুবিধার অজুহাতে এই বঙ্গভঙ্গ ঘটানো হলেও এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু-মুসলমানদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতিয়তাবাদী আন্দোলন দমন করা। এ সিদ্ধান্ত জনমনে প্রবল প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং এর প্রতিবাদে সংঘটিত হয় স্বদেশী আন্দোলন।
স্বদেশী আন্দোলনের ব্যাখ্যা:
বঙ্গভঙ্গ ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশবাসী বুঝতে পারে যে ব্রিটিশ সরকার কেবলমাত্র নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শান্তিপূর্ণ আবেদন, প্রতিবাদ ও স্মারকলিপি কোনো ফল দেয়নি। ফলে আন্দোলনকারীরা সরাসরি আন্দোলনের পথ বেছে নেয়। এই আন্দোলনের প্রধান দুটি দিক ছিল— বয়কট ও স্বদেশী।
১। বয়কট অর্থাৎ ব্রিটিশ পণ্য, শিক্ষা ও প্রশাসনিক সেবার পরিহার, যা ছিল প্রতিরোধমূলক বা নেতিবাচক কৌশল।
২। স্বদেশী অর্থাৎ দেশি পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে তোলা, যা ছিল গঠনমূলক বা ইতিবাচক কৌশল।
১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হলে, সেদিন থেকেই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। দেশব্যাপী মিছিল, সভা, ব্রিটিশ পণ্যে অগ্নিসংযোগ, দেশি শিল্পে বিনিয়োগ এবং জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সূচনা হয়। এ আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক জাগরণও ঘটায়। এটিকে ভারতের জাতীয়তাবাদের প্রথম সুসংগঠিত এবং ব্যাপক ভিত্তির আন্দোলন হিসেবে ধরা হয়।
উপসংহার: সবশেষে বলা যায়, স্বদেশী আন্দোলন ছিল শুধু বঙ্গভঙ্গ বিরোধী নয়— এটি ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে একটি জাতীয় জাগরণের প্রতীক। দেশীয় শিল্প, শিক্ষা ও অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি এ আন্দোলন ভারতবাসীর মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ, ঐক্য ও স্বনির্ভরতার বীজ বপন করে। তাই, স্বদেশী আন্দোলন ভারতীয় জাতির জাগরণে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।