অথবা, বঙ্গভঙ্গের কারণ কী?
অথবা, লর্ড কার্জনের আমলে কেন বাংলা প্রদেশকে বিভক্ত করা হয়?
ভূমিকাঃ
১৮৫৭ সালের সিপাহিবিদ্রোহের পর ইংরেজ শাসনের কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। তখন থেকে ভারত শাসনের দায়িত্ব ব্রিটিশ মহারানির হাতে চলে যায় এবং তার প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই শাসন কার্যক্রম পরিচালিত হতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় লর্ড এলগিনের পর লর্ড কার্জন ভাইসরয় নিযুক্ত হন। তিনি মনে করেন, বিশাল আয়তনের বাংলা প্রদেশকে একটি মাত্র প্রশাসনিক কেন্দ্র থেকে কার্যকরভাবে শাসন করা সম্ভব নয়। তাই তিনি প্রশাসনিক সুবিধার অজুহাত দেখিয়ে ১৯০৫ সালে বাংলা প্রদেশকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেন—এই ঘটনাই বঙ্গভঙ্গ নামে ইতিহাসে পরিচিত।
১. ভৌগোলিক কারণ:
১৯০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলা প্রদেশের আয়তন ছিল প্রায় ১ লক্ষ ৮৯ হাজার বর্গমাইল এবং জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ৫০ লক্ষ। এত বড় একটি অঞ্চলের কার্যকর শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করা একটি গভর্নরের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ভৌগোলিক দিক বিবেচনায় প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজন দেখা দেয়।
২. প্রশাসনিক কারণ:
সার্বিকভাবে বলা যায়, বঙ্গভঙ্গের মূল কারণ হিসেবে প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক যুক্তি উপস্থাপন করা হলেও এর পেছনে ব্রিটিশ সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও কাজ করেছিল। বঙ্গভঙ্গ ছিল শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়; বরং এটি ছিল জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দুর্বল করার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। তাই বঙ্গভঙ্গ শুধু বিভক্তি নয়, এটি ছিল ভারতীয় রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।