প্রশ্নঃ ব্রিটিশ শাসন আমলে সাম্প্রদায়িকতার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর।
অথবা, ব্রিটিশ শাসন আমলে সাম্প্রদায়িকতার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর।
অথবা, উপনিবেশিক শাসনামলে সাম্প্রদায়িকতার উদ্ভব ও এর ফলাফল ব্যাখ্যা কর।

ভূমিকা:

ভারত উপমহাদেশ দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন ধর্ম, জাতি ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থানের স্থান ছিল। হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায় শান্তিপূর্ণভাবে যুগের পর যুগ একত্রে বসবাস করত। কিন্তু ব্রিটিশ শাসনের সূচনা এই ঐক্যের মাঝে ফাটল ধরায়। তাদের "Divide and Rule" বা "ভাগ করো ও শাসন করো" নীতির মাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপিত হয়।

সাম্প্রদায়িকতার উৎপত্তির কারণ:

সাম্প্রদায়িকতার ক্রমবিকাশ:

ফলাফল:

ব্রিটিশদের সাম্প্রদায়িক উসকানি ও নীতির ফলে হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যকার বিভেদ গভীর হয়। এই সাম্প্রদায়িকতার চূড়ান্ত পরিণতিতে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে দুটি রাষ্ট্র—ভারত ও পাকিস্তান গঠিত হয়।

উপসংহার:

ভারতের সাম্প্রদায়িকতার পেছনে ধর্ম নয়, বরং ব্রিটিশদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শাসননীতিই মুখ্য ভূমিকা রাখে। তাদের "Divide and Rule" নীতির ফাঁদে পড়ে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যকার সম্প্রীতি নষ্ট হয়, যার পরিণতি ছিল বিভক্ত ভারত। এই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য।